তিন মাস ধরে চলমান ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে পাকিস্তানের জ্বালানি খাত। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতে প্রথমবারের মতো নিজস্ব কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা তেলের মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন পেট্রোলিয়াম বিভাগ সম্প্রতি কৌশলগত তেল মজুত গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।
সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নতুনভাবে সচেতন করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানিকৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য দেশটির নিজস্ব কোনো কৌশলগত তেল মজুত নেই।
এ কারণে সরকার রাষ্ট্রীয় সংরক্ষণাগার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক মজুত এবং বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত বন্ডেড স্টোরেজ সুবিধাকে সমন্বিত করে একটি কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সঙ্গে বন্ডেড তেল টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে গওয়াদর বন্দরের নামও বিবেচনায় রয়েছে। সংকটকালীন সময়ে এসব মজুত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে।
পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপে ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে জরুরি ব্যবহারের নীতিমালা, মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্পষ্ট কাঠামো থাকা জরুরি। অন্যথায় এটি কার্যকর কৌশলগত মজুত না হয়ে সাধারণ বাণিজ্যিক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের জন্য পেট্রোলিয়াম লেভি থেকে প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এক মাসের তেল মজুত গড়ে তুলতে বিপুল ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বেসরকারি খাত যুক্ত হলে আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বিশ্লেষকদের একাংশ জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিকল্প প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন।