কোরবানির পশুর ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে ব্যর্থ হওয়ায় ইজারাদারদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য কালোতালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৩১ মে) নগর ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইজারাদারেরা বর্জ্য অপসারণ না করায় জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশনকে নিজ উদ্যোগে এসব বর্জ্য পরিষ্কার করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গাফিলতির জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন থেকে গত শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য ডাম্পিং করা হয়েছে, যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। প্রথম দিনেই ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিনে ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিনে ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ কার্যক্রমে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ১১৭টি যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় বর্জ্য পরিবহনে। ডিএসসিসি জানায়, ৭৫টি ওয়ার্ডে ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন এবং বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংস্থাটি জানায়, শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করায় সিটি করপোরেশনকে অতিরিক্ত চাপ ও ব্যয় বহন করতে হয়েছে। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদের তদারকি দল মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকলে দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে। সবশেষে প্রশাসক বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। নাগরিক সেবায় অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।