পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ছয় দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯০ জন। সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ঈদের দিন গোপালগঞ্জে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বেদগ্রাম এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ পাঁচ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হন।
নেত্রকোনায় পৃথক দুই দুর্ঘটনায় তিন নারীসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। অন্যদিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই যুবক। ফরিদপুরের মধুখালীতে ঈদের দিন পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংঘর্ষে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়। একই জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও দুই জনের প্রাণহানি ঘটে।
ময়মনসিংহে পিকআপ ও অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও তার আড়াই বছরের ছেলে নিহত হয়েছেন। নরসিংদীতে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুই তরুণ। পটুয়াখালীর গলাচিপায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
সাতক্ষীরা ও দিনাজপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় চার তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। নাটোর, নড়াইল, জামালপুর, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, পাবনা, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া ও কিশোরগঞ্জেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চাঁদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় এক পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। কিশোরগঞ্জে বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। কুষ্টিয়ায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েক ডজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
এছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গাইবান্ধায় বাস খাদে পড়ে এক নারী নিহত ও সাত জন আহত হন। রাজবাড়ীতেও মোটরসাইকেল ও অটোভ্যানের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঈদযাত্রা ও ঈদ-পরবর্তী ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এবং চালকদের অসতর্কতাকেই অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।