বিশ্ব ফুটবলে দারিদ্র্য জয় করে উঠে আসা লাতিন আমেরিকার তারকাদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইগর থিয়াগো-র নাম। শৈশবে বাবাকে হারিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড একসময় রাজমিস্ত্রির সহকারী, ডেলিভারি বয়, বিক্রয়কর্মী ও গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেছেন। তবে কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ফুটবলকে ছাড়েননি কখনও। আর সেই ফুটবলই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে ব্রাজিল জাতীয় দলের দরজায়।
ব্রাজিলের পারানা রাজ্যে বেড়ে ওঠা থিয়াগোর ফুটবল যাত্রা শুরু হয় স্থানীয় পর্যায়ে। ছোটবেলা থেকেই রাস্তায় কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন তিনি। স্থানীয় একটি এনজিও আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে প্রথমবার আলোচনায় আসেন এই তরুণ ফুটবলার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের আর্থিক সংকট চরমে পৌঁছে যায়। তখন মাকে সহায়তা করতে ফুটবল অনুশীলনের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করতে শুরু করেন থিয়াগো।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কখনও রাজমিস্ত্রির সহকারী, কখনও ফলের দোকানের কর্মচারী, আবার কখনও বাড়িতে ফল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন। এমনকি কাজ না থাকলে গাড়ি ধোয়া ও ক্লিনারের কাজও করতে হয়েছে তাকে। এনজিওর একটি ফুটবল কার্যক্রমে খেলতে গিয়ে সাবেক ফুটবলার টিকোর নজরে পড়েন থিয়াগো। পরে তাকে পাঠানো হয় পারানা রাজ্যের ছোট ক্লাব ভেরে-তে। পরিবার ছেড়ে সেখানে যাওয়া ছিল তার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। ভেরে ক্লাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ২০১৮ সালে পারানা অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। এরপর অনূর্ধ্ব-২০ দলে সুযোগ পান এবং সেখান থেকেই নজরে আসেন ঐতিহ্যবাহী ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ক্রুজিরো-এর স্কাউটদের।
ক্রুজিরোতে প্রথম পেশাদার চুক্তি করলেও শুরুতে মানসিক চাপ, সমালোচনা ও পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টে ভুগতে হয় তাকে। তবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে প্রমাণ করেন এই ফরোয়ার্ড। পরে বুলগেরিয়ার ক্লাব লুডুগোরেটস হয়ে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে ২০২৪ সালে ইংলিশ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ড তাকে ৪১ মিলিয়ন ডলারে দলে ভেড়ায়। প্রিমিয়ার লিগে নিজের দ্বিতীয় মৌসুমে ২২ গোল করে দারুণ আলোচনায় আছেন ইগর থিয়াগো। চলতি মৌসুমে আর্লিং হালান্ড-এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। গত মার্চে প্রথমবার ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পান থিয়াগো। জাতীয় দলের হয়ে দুই ম্যাচে একটি গোলও করেছেন তিনি। এখন তার লক্ষ্য—বিশ্বকাপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।