ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরমুখী ফ্লাইওভার লেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই লেন চালুর ফলে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হবে। রোববার (২৪ মে) সকাল থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় যান চলাচল শুরু হয় নতুন এই লেন দিয়ে। এতে চালক, যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হাটিকুমরুল গোলচত্বর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এখান থেকেই ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহন পৃথক হয়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছে যায়। ফলে প্রতিবছরই এই এলাকায় তীব্র যানজট ও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগেই নতুন লেন চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তির হবে। অতিরিক্ত চাপ থাকলেও আগের মতো দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বগুড়াগামী যাত্রী সাবিহা, সাইমা ও শফিউর রহমান জানান, হাটিকুমরুল মোড় সবসময়ই যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগের জায়গা ছিল। তবে নতুন লেন চালু হওয়ায় এবার যাত্রা সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন। গরুবাহী ট্রাকচালক আব্দুল মমিন বলেন, ঈদের সময় পশুবাহী যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। নতুন ফ্লাইওভার লেন চালু হওয়ায় মালবাহী ট্রাক দ্রুত চলাচল করতে পারবে এবং সময়ও কম লাগবে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস ও পশুবাহী ট্রাক একসঙ্গে চলাচল করায় চাপ তৈরি হয়। নতুন লেনটি সেই চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।
সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন জানান, উত্তরবঙ্গগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন এই নতুন লেন ব্যবহার করবে। প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে জেলার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।