যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, ইসলামাবাদে নিযুক্ত একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে—পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে তার সফরের মেয়াদ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসিম মুনিরের দ্বিতীয় সফর বলে জানা গেছে। একই সময়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও ইরানে অবস্থান করছেন। এদিকে সৌদি আরবভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত কাঠামোতে সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় নয় এবং আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।