ইরানের ড্রোন হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেল ডিপোগুলোর ওপর লোহার খাঁচা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট নকশায় তৈরি ধাতব কাঠামো দিয়ে ডিপোগুলো ঘিরে ফেলা হচ্ছে, যাতে ড্রোন সরাসরি আঘাত হানতে না পারে।
সূত্র জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে আমিরাতের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একই সময়ে আমিরাতে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের উপস্থিতি এবং ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টি তেহরানের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান আমিরাতের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র ও ডিপোতে ছোট আকারের ড্রোন হামলা শুরু করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফর ফাঁস হওয়ার পর ইরান নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে জ্বালানি খাত আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে। ফলে জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশটির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামোগত নিরাপত্তায় লোহার খাঁচার মতো পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও ছায়া যুদ্ধেরই একটি নতুন প্রতিফলন।