বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের স্বজনদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের বড় একটি অংশই বর্তমান সরকারি দল বিএনপির মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আত্মীয়স্বজন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন। বিসিবি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানান, তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জেলা ও বিভাগীয় ক্যাটাগরিতে রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একটি করে পরিচালক পদের বিপরীতে মাত্র একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। রংপুর বিভাগ থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মির্জা ফয়সল আমীন, যিনি বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর ভাই।
রাজশাহী বিভাগে একক প্রার্থী মীর শাকরুল আলম। তিনি প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম-এর ছেলে। সিলেট বিভাগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, যিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও প্রার্থী হয়েছেন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপিদের আত্মীয়রা। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইদ বিন জামান, মাঈন উদ্দিন চৌধুরী এবং শান্তনু ইসলাম।
ক্লাব ক্যাটাগরিতেও রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাস মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা যথাক্রমে অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সন্তান। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ২৩ জন পরিচালক ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত আরও দুই পরিচালকসহ মোট ২৫ জন পরিচালকের ভোটে নির্বাচিত হবে বিসিবির নতুন সভাপতি।