চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আদালত দ্রুত চার্জশিট দাখিলের জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে বাকলিয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটকে রাখা ভবন ঘেরাও করেন। পুলিশ তাকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয় এবং অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে শিশুটি মারা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, “বিচার দীর্ঘসূত্রতায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমি চাই, আমার মেয়ের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, শিশুটি এখন আশঙ্কামুক্ত। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলে ধারণা করা হলেও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত হওয়া যাবে।