চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী গণবিয়ের অনুষ্ঠান, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এই গণবিয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় ঐক্য ও তরুণ সমাজের মনোবল বৃদ্ধি করা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শত শত বর-কনে ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজনে যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মত্যাগে প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার করেছেন বলেও জানানো হয়।
সোমবার (১৮ মে) রাতে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থানে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটি প্রধান ভেন্যু ছিল ইমাম হোসেন স্কয়ার, যেখানে শতাধিক যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই কর্মসূচিকে বলা হচ্ছে ‘জানফাদা’ বা ‘আত্মোৎসর্গ’ উদ্যোগ। এতে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই দেশপ্রেম ও জাতীয় প্রতিরক্ষার প্রতীকী বার্তা দিয়েছেন বলে প্রচার করা হয়েছে।
আয়োজনে বর-কনেরা সামরিক বাহিনীর যানবাহনে করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং বিশেষভাবে সাজানো মঞ্চে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তবে অনুষ্ঠানটি যুদ্ধকালীন আবহের মধ্যেও সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে বিয়ের স্বাভাবিক আনন্দ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। অনুষ্ঠানটি ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ঐক্য ও প্রতিরোধের মনোভাব আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর্মসূচি একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তা ও জনসমর্থন প্রদর্শনের কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।