বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে গঠিত স্বতন্ত্র ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শের ভিত্তিতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনের পর সদ্য গঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মোট ১৫ জন কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার সেটিকে চূড়ান্ত আইনে রূপান্তর না করে শেষ পর্যন্ত বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট এবং পরে ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ঐতিহাসিক রায় দেন, যেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলমান ছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে পৃথক সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাদেশ জারি করা হলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তা আর টেকসই হয়নি। বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কার্যত বিলুপ্ত হয়ে আবারও প্রশাসনিক কাঠামো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে গেল।