বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে একটি মতামতধর্মী লেখায়। দৈনিক ইত্তেফাকের রাজনীতি ও নির্বাচন বিষয়ক সম্পাদকের কলামে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন দলে উপেক্ষিত বোধ করছেন। লেখায় উল্লেখ করা হয়, বিএনপির কঠিন সময়ে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মুখেও দল ছেড়ে যাননি, তাদের পরিবর্তে এখন বিভিন্ন সুবিধাভোগী ও নবাগত গোষ্ঠী দলে প্রভাব বিস্তার করছে। এতে দলের ভেতরে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং আদর্শিক রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কলামে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত ‘সুশীল রাজনীতি’র কারণে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূলধারা দুর্বল হয়ে পড়ছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে যারা রাজনৈতিক সংকটের সময় নীরব ছিলেন, তারাই এখন বিভিন্নভাবে প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসছেন। গণমাধ্যম প্রসঙ্গেও সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে ওই লেখায়। সেখানে দাবি করা হয়, কিছু সাংবাদিক ও সুশীল গোষ্ঠী অতীতের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার সুবিধাভোগী ছিলেন এবং বর্তমানে আবারও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে।
সরকার পরিচালনা প্রসঙ্গে লেখায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দ্রুতগতিতে সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন, সরকারের অন্যান্য অংশ সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এতে প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে। লেখক মনে করেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এবং তৃণমূলের ত্যাগকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও দলকে সামনে এগোতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।