যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কাডিয়া শহরের মেয়র আইলিন ওয়াং পদত্যাগের পর শহরটির রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে চীনের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী আইলিন ওয়াং সম্প্রতি একটি ফৌজদারি অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের স্বার্থে অবৈধভাবে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং সে বিষয়ে আইনগত নিবন্ধন না করার অভিযোগও রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
বিচার বিভাগের নথিতে বলা হয়, ওয়াং ও তার এক সহযোগী স্থানীয় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চীনের পক্ষে জনমত গঠনের প্রচারণা চালাতেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আর্কাডিয়া শহরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৫৬ হাজার জনসংখ্যার এই শহর, যেখানে বড় একটি অংশ চীনা বংশোদ্ভূত, অনেক সময় “চাইনিজ বেভারলি হিলস” নামে পরিচিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে বিচার করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর বিশেষজ্ঞ জোশুয়া কারলান্টজিক বলেন, বিদেশে প্রভাব বিস্তারে চীনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় এবং বর্তমানে এটি আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি সরকারের পক্ষে জনমত প্রভাবিত করার কাজ করেন, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী বিদেশি এজেন্ট নিবন্ধন আইনের আওতায় পড়ে।
এদিকে অভিযুক্ত ওয়াংয়ের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং এর দায় নিতে প্রস্তুত। আগামী ২৯ মে তার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। আর্কাডিয়া সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যালোচনায় শহরের প্রশাসনিক বা আর্থিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি এবং প্রয়োজন হলে তারা ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করবে।