লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাইর ফিলসাইহ শহরে চালানো এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার সংঘটিত এই হামলার পর পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হলেও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ থামছে না। ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৯৮৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯ হাজার ২১০ জন। রোববারের হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন করে উচ্ছেদ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। পশ্চিম বেকা, নাবাতিয়েহ, জেজিন ও সাইদা জেলার কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের বর্তমান অবস্থান থেকে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সময়ে শৌকিন, সাফাদ আল-বাত্তিখ, কাফরা, দেইর আন্তার ও তেবনিনসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকাতেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমর আল-শাকিফ এলাকায় অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর সফল হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া নাকৌরা বন্দরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে গোলাবর্ষণের কথাও জানিয়েছে তারা।
হিজবুল্লাহর তীব্র প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলও নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতে তাদের অন্তত ১০৫ জন সেনা আহত হয়েছেন। এছাড়া গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে তারা। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক শাখা আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সীমান্তে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।