মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দীর্ঘদিন বাকিতে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন পিরোজপুরের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সাত বছরে তার বকেয়া পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত তিনি রাস্তায় মাইকিং করে পাওনা টাকা আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছেন। পিরোজপুর সদর উপজেলার পাড়েরহাট সংলগ্ন দক্ষিণ শংকরপাশা এলাকার ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বাদশা স্থানীয়ভাবে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তিনি ইজিবাইক চালক ও স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বাকিতে মালামাল বিক্রি করতেন। কিন্তু সময়মতো টাকা পরিশোধ না হওয়ায় তার ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তিনি গ্রাহকদের কাছে ব্যাটারি, খুচরা যন্ত্রাংশ ও মুদি পণ্য বাকিতে দেন। তবে অনেক ক্রেতা পরে আর টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে তার বকেয়া ধীরে ধীরে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকায় পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত তিনি হালখাতার আয়োজন করেন। তবে সেখানে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে মাত্র অল্প পরিমাণ অর্থ আদায় হয়। এরপর বাধ্য হয়ে তিনি মাইক ভাড়া করে এলাকায় ঘুরে ঘুরে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানাচ্ছেন।
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, তিনি মানুষের উপকার করতে গিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। বকেয়া টাকা আদায় না হলে তার ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অনাদায়ী বকেয়া এখন তার জীবিকা ও ব্যবসার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে কিছু গ্রাহক ইতোমধ্যে বকেয়া পরিশোধ শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, বাকিরা দ্রুত পাওনা পরিশোধ করে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবেন।