ইরান যদি দ্রুত একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে দেশটির জন্য সামনে কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই নয়, বরং ইরানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, নতুন করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেহরান একটি বার্তা পেয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী অবস্থান ও ‘বিরোধপূর্ণ বার্তার’ কারণে ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অতীতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চলমান আলোচনার সময় আকস্মিক সামরিক উত্তেজনার কারণে কূটনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এখনো ইরানের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টারা সম্ভাব্য অভিযানের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছেন, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হলে হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পর্দার আড়ালে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের ধারণা, যদি ইরান জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়, তবে সেটিকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: বিএফএমটিভি, নিউইয়র্ক টাইমস, আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষণ