দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়; বরং দেশের টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতার প্রতিফলন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টিকাদানে অবহেলা এবং নীতিগত কিছু দুর্বল সিদ্ধান্তের কারণেই দেশে হামজনিত মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হয়নি। তার মতে, জনস্বাস্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই এই সংকট আরও জটিল হয়েছে।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম বলেন, দেশে নবজাতক ও বয়স্কদের জন্য আইসিইউ সুবিধা থাকলেও পিআইসিইউর ঘাটতি রয়েছে, যা শিশু চিকিৎসায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও হাম আক্রান্তের ঘটনা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধপান কমে যাওয়া, দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং মাতৃ পুষ্টিহীনতা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, হামের জটিলতা কমাতে ভিটামিন–এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পূর্বে নিয়মিত ভিটামিন–এ কর্মসূচি চললেও বর্তমানে তা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে। তারা সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালে পৃথক হাম কর্নার স্থাপন, প্রান্তিক শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, এবং কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম শক্তিশালী করার দাবি জানান।
তাদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকাও সংকটের অন্যতম কারণ। এজন্য জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৬১ শিশু। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট ৪৫৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, যার একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।