আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে দেশটিতে শুটিং করা বিদেশি চলচ্চিত্রের জন্য যোগ্য স্থানীয় ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা বা ক্যাশ রিবেট দেওয়া হবে। নতুন এই ঘোষণা বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পে সৌদি আরবকে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সৌদি ফিল্ম কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন প্রণোদনা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বিন নাসের আল-কাহতানি জানান, শুধু রিবেটের পরিমাণ বাড়ানোই নয়, অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত ও সহজ করা হয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন সংস্থা কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সহযোগিতায় নতুন অর্থায়ন সুবিধাও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সহজে বিনিয়োগ ও শুটিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো বিদেশি প্রযোজকদের জন্য পরিচালন পরিবেশ সহজ করা এবং শুটিংয়ের পুরো সময়জুড়ে অর্থপ্রবাহের নিশ্চয়তা বাড়ানো। অতীতে সৌদির চলচ্চিত্র সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছিল, নতুন এই পদক্ষেপ সেগুলোর সমাধান দেবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও চলচ্চিত্র শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে সৌদি আরব স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের কনটেন্ট নির্মাণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলচ্চিত্র খাতকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ রিবেটের এই সুবিধা বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেক দেশের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে যেখানে চলচ্চিত্র প্রণোদনার হার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে সৌদির নতুন ঘোষণা আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এখনো এই কর্মসূচির মোট বাজেট ও বার্ষিক সীমা প্রকাশ করেনি সৌদি ফিল্ম কমিশন। ফলে আন্তর্জাতিক প্রযোজকদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে।