গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন শিশু ও নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজারসহ আশপাশের এলাকায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বাড়ছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুলতানা বেগম (৩৯), আফরুজা বেগম (৪০), রতনেশ্বর বর্মণ (৫০), নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া (৫২)। আক্রান্তদের মধ্যে আরও কয়েকজন হাসপাতালে এবং বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২২ এপ্রিল সকালে একটি বেওয়ারিশ কুকুর আকস্মিকভাবে একাধিক ব্যক্তিকে কামড় দেয়। আহতরা প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান, কিন্তু সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। সেখানেও ভ্যাকসিন না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা শুরু করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিহত সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন জানান, সময়মতো ভ্যাকসিন না পাওয়া এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটায় তার মা মারা যান।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, আক্রান্তরা সময়মতো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি এবং ওই সময়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনও মজুদ ছিল না। সম্প্রতি মাত্র ১৫ হাজার টাকার ভ্যাকসিন বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন দেওয়া গেলে জলাতঙ্কে মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব। তবে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও সংরক্ষণ নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় কুকুর নিয়ন্ত্রণ, ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।