হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজে হামলার ঘটনা আসল নাকি সাজানো নাটক—এ প্রশ্ন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে সন্দেহ করছেন। অনলাইন সংবাদ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান নিউজগার্ড এবং গবেষণা সংস্থা ইউগভ-এর যৌথ জরিপ অনুযায়ী, প্রতি চারজন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে একজন মনে করেন, ওয়াশিংটন হিলটনে অনুষ্ঠিত ওই নৈশভোজে ঘটে যাওয়া হামলা “সাজানো” বা পরিকল্পিত হতে পারে। বিষয়টি প্রকাশ করেছে দৈনিক ইত্তেফাক।
জরিপটি ২৮ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত ১ হাজার নাগরিকের ওপর পরিচালিত হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ২৪ শতাংশ উত্তরদাতা ঘটনাটিকে ভুয়া বা নাটকীয় বলে মনে করেন, ৪৫ শতাংশ এটিকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে স্বীকার করেন এবং প্রায় ৩২ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত মতামত দিতে পারেননি।m তবে রাজনৈতিক বিভাজনও এখানে স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৩৩ শতাংশ এই ঘটনাকে সাজানো বলে মনে করেন, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার মাত্র ১২ শতাংশ। তরুণদের (১৮–২৯ বছর) মধ্যে এই সন্দেহ আরও বেশি প্রবণতা দেখিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই ঘটনায় কোল টমাস অ্যালেন নামের এক বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বলা হচ্ছে, ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো হতে পারে—যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস এসব দাবিকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেন, এমন দাবি করা ব্যক্তিরা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন, গণমাধ্যমের প্রতি অবিশ্বাস এবং অনলাইন গুজবের বিস্তার এই ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিভ্রান্তি বাড়ছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোয়ান ডনোভান বলেন, রাজনৈতিক নাটকীয়তা ও অতীত অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই এখন রাষ্ট্রীয় ঘটনাগুলোকেও সন্দেহের চোখে দেখছেন।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের ওপর অতীতের বিভিন্ন হামলার ঘটনাগুলোকেও একটি অংশের মানুষ “সাজানো” বলে মনে করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আস্থাহীনতার গভীরতাকেই তুলে ধরে।
সূত্র: নিউজগার্ড, ইউগভ, হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং, বোস্টন ইউনিভার্সিটি বিশ্লেষণক।