দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলমান থাকায় এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারও ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতাল এলাকায় ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ডা. মিলন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে ২০ শয্যার একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সরকারি হাসপাতালগুলো রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডেঙ্গুর সম্ভাব্য বিস্তার বিবেচনায় ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুতের কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও সামনে দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, হামে আক্রান্ত সব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ, যা সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, পানিশূন্যতা বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, জ্বরের পর র্যাশ দেখা দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন কিছু ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এডিস মশা বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা কমছে। তবে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।