যৌতুকের এক লাখ টাকা না আনার কারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কীটনাশক পান করেন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ হাসিনা খাতুন (২১)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত মধ্যরাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই স্বামী মো. রাতুল গৃহবধূর শরীর থেকে স্বর্ণালঙ্কার খুলে নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির কেউ আর খোঁজে নেই।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসিনা খাতুন নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার আন্দারদিঘি গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলীর মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. ছবির ছেলে রাতুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নিহতের খালাতো ভাই রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই রাতুল মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে হাসিনাকে চাপ দিয়ে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য নিয়মিত নির্যাতন করত, যা দিয়ে সে অবৈধ ব্যবসা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।
পরিবারের দাবি, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার রাতের দিকে হাসিনা কীটনাশক পান করেন। পরে তাকে প্রথমে প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তার পাশে স্বামী রাতুল, তার বোন এবং দুই বন্ধু ছিলেন বলে জানা যায়। মৃত্যুর পর তারা সবাই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।