রাজধানীর কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তি এলাকার প্রায় ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন। এতে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমতা ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ, স্বাস্থ্যকর্মীদের সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার—সব মিলিয়ে এটি একটি অসম লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ জনগণ নিজে বহন করে, যা অনেক পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, লক্ষ্য হলো কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তির কেউ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবার জন্য সহজ ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষই শহরের জীবনচাকা সচল রাখছে, কিন্তু তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নতুনভাবে প্যাথলজি ইউনিট, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার এবং ৫০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে, যা বিনামূল্যে সেবা দেবে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল যুক্ত করা হয়েছে, যাতে গুরুতর রোগীরা দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা পান। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।