বেশ কিছুদিনের বৃষ্টির পর গতকাল মঙ্গলবার কড়া রোদ উঠায় সিলেট অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ভেজা ধান

সিলেটে প্রতি মণ ধানের সরকারি দাম ১৪৪০ টাকা, ফড়িয়ারা কিনছেন ৬০০-৮০০ টাকায়

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৬ মে ২০২৬, সকাল ৯:২৪ সময় , আপডেট সময় : ৬ মে ২০২৬, সকাল ৯:২৪ সময়

বেশ কিছুদিনের বৃষ্টির পর গতকাল মঙ্গলবার কড়া রোদ উঠায় সিলেট অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ভেজা ধান শুকানোর সুযোগ পেলেও নদীর পানি বৃদ্ধি ও নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাসে দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকদের। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মে মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এতে সিলেট অঞ্চলের বোরো ফসল আবারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


আবহাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, গত এপ্রিল মাসে সিলেটে ৬০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১০৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে গড়ে ১৩ দিনের পরিবর্তে ২৩ দিন বৃষ্টি হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও হাওর রক্ষা বাঁধের ওপর চাপ বাড়ছে।


অন্যদিকে, সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও কৃষকদের মধ্যে তেমন সাড়া নেই। প্রতি মণ ধানের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে ফড়িয়ারা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় ভেজা ধান কিনছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন। সুনামগঞ্জের দেখার হাওরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা জানান, ধারদেনা করে বোরো আবাদ করলেও এবার আবহাওয়ার কারণে তারা চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে কম দামে খলাতেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।


কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হলেও হাওর এলাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য অংশ পানির নিচে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি ভালো থাকলে অবশিষ্ট ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর এলাকার কৃষি সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকের ক্ষতি আরও গভীর হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯