বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তারা বলছেন, সহজ একটি নিরাপত্তা

বজ্রপাতের সময় জীবন বাঁচাতে পারে ‘৩০-৩০ নিয়ম’

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৬ মে ২০২৬, সকাল ৯:১৫ সময় , আপডেট সময় : ৬ মে ২০২৬, সকাল ৯:১৫ সময়

বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তারা বলছেন, সহজ একটি নিরাপত্তা নির্দেশিকা—‘৩০-৩০ নিয়ম’ অনুসরণ করলে এই মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। চলতি বছর এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক। সর্বশেষ ২৬ এপ্রিল একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। এ তথ্য জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)।


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) তথ্য অনুযায়ী, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত হলেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের অভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না। বিএমডির স্টর্ম ওয়ার্নিং সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সতর্ক বার্তা শোনা যথেষ্ট নয়—কী করতে হবে, সেটি জানা জরুরি। ‘৩০-৩০ নিয়ম’ অনুযায়ী, বজ্রপাতের আলো দেখার সঙ্গে সঙ্গে সেকেন্ড গণনা শুরু করতে হবে। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বজ্রধ্বনি শোনা গেলে বুঝতে হবে বজ্রঝড় কাছাকাছি এবং তখনই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। আবার শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের ভেতরে থাকতে হবে।


বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেকেই বজ্রপাতের লক্ষণ দেখার পরও বাইরে অবস্থান করেন—কৃষিকাজ, গবাদি পশু আনা বা বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার কারণে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা মাঠ, গাছের নিচে দাঁড়ানো বা ঝড়ের সময় চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৬ সালে দেশে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর শত শত মানুষ এতে প্রাণ হারান। ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ এলাকায় ‘৩০-৩০ নিয়ম’ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বজ্রপাত-নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’—এই বার্তাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, বজ্রপাত প্রতিরোধ করা না গেলেও সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯