পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বলে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ফলাফলকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এই ফলাফলকে “অনৈতিক” বলে আখ্যা দিয়েছে। সোমবার (৪ মে) কলকাতায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, “নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে” এবং শতাধিক আসনে কারচুপির অভিযোগও করেন। তার ভাষায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রভাব কাজে লাগিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, এই ফলাফল কোনো “নৈতিক জয় নয়” এবং দল ভবিষ্যতে আবার ঘুরে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, বিজেপির এই কথিত জয়ের খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে “পদ্ম ফুটেছে” এবং এই ফলাফলকে তিনি “সুশাসনের রাজনীতির জয়” হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভোট গণনার সময় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক আসনে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমসহ কয়েকটি আসনে ফল প্রকাশে দেরি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হয়, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দলও কিছু আসনে জয় পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ফলাফল ও প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।