ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন-২০২৩ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। এ আইনের মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষা পাবে। উপাত্ত সুরক্ষা বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করা হবে, যেখানে সবার তথ্য সুরক্ষিত থাকবে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য কেউ নিতে পারবে না।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে এ বিষয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর কেবিনেটে আইন অনুমোদন হতে সংবিধানে কোনও বাধা নেই। এটা সরকারের রুটিন কাজের একটি অংশ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিভিন্ন অপরাধে ৩-৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৩’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকে ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক উপজেলার একটি মাস্টারপ্ল্যান করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যৌক্তিকভাবে মাস্টারপ্ল্যান করতে বলা হয়েছে এবং নারীদের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরীর মনোভাব সৃষ্টি করতে জয়িতা ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্ত কেউ ব্যবহার করতে পারবে না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বিদেশি কোম্পানি আইন না মানলে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার যে টার্নওভার আছে তার পাঁচ শতাংশ জরিমানা হিসেবে আদায় করা যাবে।
এছাড়া নারীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব সৃষ্টি করতে জয়িতা ফাউন্ডেশন আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে কেবিনেটে সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এরপর নির্বাচনের আগে আর কেবিনেট মিটিং হবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্ত হয়নি।