মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে আসা নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুরু থেকেই তিনি এই প্রস্তাব নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক দশক ধরে ইরান বিশ্বজুড়ে যে কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তার তুলনায় এই প্রস্তাবে যথেষ্ট দায়বদ্ধতা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গত ৪৭ বছর ধরে তারা মানবতা ও বিশ্ব নিরাপত্তার ওপর যে প্রভাব ফেলেছে, তার বিপরীতে এখনো তারা যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি।”
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো আরেকটি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি তখনই জানিয়ে দেন, তেহরানের শর্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। বর্তমান আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফ্লোরিডায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, যদি ইরান আবারও কোনো “অসদাচরণ” করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। বর্তমান সংকটের পটভূমিতে রয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে সংঘটিত সামরিক উত্তেজনা, যেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের পর অঞ্চলজুড়ে টানা সংঘাত সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন, তবে ইরানের প্রতি তার অবস্থান এখনো কঠোরই রয়েছে।