ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ-অবরোধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমকে ‘জলদস্যুদের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২ মে) এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে জাহাজ ও জ্বালানি তেল দখলে নিচ্ছে, যা তার ভাষায় “লাভজনক হলেও দস্যুদের মতো আচরণ”।
সম্প্রতি একটি ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, জাহাজটি দখল, এর পণ্য ও তেল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত জলদস্যুদের মতো কাজ করছে, যদিও এটি কোনো খেলা নয়।, তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ জরুরি ছিল। তার মতে, এই পদক্ষেপ না নিলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াত।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে বিভক্তি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে না। তিনি বলেন, দেশটির ভেতরে একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এদিকে পারস্য উপসাগরে চলমান মার্কিন নৌ-অবরোধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত তেল ও এলএনজির বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়।
ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই নৌপথে বিদেশি জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয় চাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে টোল আরোপের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে অবরোধ আরও কঠোর করে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন ভূমিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ফেলেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।