ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক নৌ-অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে রাশিয়ার আলোচিত সুপারইয়াট ‘নর্ড’। প্রায় ৪৬৫ ফুট দীর্ঘ এই বিলাসবহুল ইয়াটটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়টার্স ও শিপিং ট্র্যাকিং ডেটা প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল দুবাই মেরিনা থেকে যাত্রা শুরু করে ইয়াটটি ২৫ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে এবং পরে ওমানের মাসকাটে পৌঁছায়। বর্তমানে এই জলপথে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে একটি এত বড় বিলাসবহুল রুশ সুপারইয়াটের নির্বিঘ্ন চলাচল আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মালিকানা ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট—
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ইয়াট ‘নর্ড’ রাশিয়ার ধনকুবের আলেক্সি মোর্দাসোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হয়। যদিও সরাসরি মালিকানা তার নামে নয়, তবে ২০২২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী এটি তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ছিল বলে জানা যায়।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোর্দাসোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর পরও তার সম্পদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সম্পদ আন্তর্জাতিক শিপিং রেকর্ডে সক্রিয় রয়েছে।
সুপারইয়াটের বৈশিষ্ট্য—
‘নর্ড’কে বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল সুপারইয়াট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে—
২০টিরও বেশি বিলাসবহুল কেবিন—
হেলিপ্যাড
সুইমিং পুল
ব্যক্তিগত সাবমেরিন সুবিধা
এর আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি ডলারের বেশি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ চলমান। এর মধ্যেই রাশিয়ার এই ইয়াটের উপস্থিতি মস্কো-তেহরান সম্পর্কের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে ইয়াটটির এই যাত্রা কীভাবে অবরুদ্ধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সম্ভব হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স, মেরিনট্রাফিক, এনডিটিভি