পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার ও এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী দাবি ও আন্তর্জাতিক প্ৰেক্ষাপট

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১০:৯ সময় , আপডেট সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১০:৯ সময়

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার ও এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, এই শব্দটি কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক আলোচনা ও চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ধারণাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে আসছে এবং জাতিসংঘের কিছু প্রাসঙ্গিক দলিলের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আইএলও কনভেনশন-১০৭ প্রবর্তন করে, যা বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর অনুস্বাক্ষর করে। এতে ‘Indigenous’ ও ‘Tribal’ শব্দকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে পার্বত্য এলাকার জনগোষ্ঠীকে ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বা ‘এথনিক কমিউনিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন নীতিগত ব্যাখ্যায় বলা হয়।


অন্যদিকে ১৯৮৯ সালে প্রস্তাবিত আইএলও কনভেনশন-১৬৯ এবং ২০০৭ সালের জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণা (UNDRIP) নিয়ে বাংলাদেশ এখনো স্বাক্ষর বা অনুমোদন করেনি। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, সার্বভৌমত্ব, প্রশাসনিক কাঠামো ও ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, এসব আন্তর্জাতিক নথির কিছু অনুচ্ছেদ—যেমন আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বশাসন, ভূমি ও সম্পদের অধিকার এবং ‘স্ব-পরিচয়’-ভিত্তিক সংজ্ঞা—রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ অনেক দেশ আইএলও-১৬৯ অনুস্বাক্ষর না করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপানসহ একাধিক দেশও এখনো এই কনভেনশন গ্রহণ করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি (১৯৯৭)-এও ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার না থাকলেও ‘উপজাতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক ফোরাম ও নীতিগত আলোচনায় ‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে নতুন করে দাবি ও বিতর্ক তৈরি হয়।


এ প্রসঙ্গে একটি পক্ষের দাবি, এ ধরনের পরিচয় রাজনীতিকরণ করা হলে তা সামাজিক বিভাজন ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ মনে করে, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতি মানবাধিকার কাঠামোর অংশ। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশে সকল নাগরিক—সমতল বা পার্বত্য অঞ্চলের—সমান অধিকারভোগী এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব পাচ্ছেন বলে সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯