যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্বে আসেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। মার্কিন একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার শারীরিক অবস্থা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। তার নির্দেশনাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রচার করা হচ্ছে। সূত্রের বরাতে বলা হয়, নিজেকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন এড়াতেই তিনি সচেতনভাবে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত রয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় তার নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে। এমনকি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গেও সরাসরি দেখা করছেন না তিনি।
গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রচলিত পদ্ধতি—হাতে লেখা বার্তা খামে সিলগালা করে বিশ্বস্ত বাহকের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এসব বার্তা মোটরসাইকেল বা সাধারণ যানবাহনে গোপন পথে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তার অবস্থানস্থলে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। মুখে আঘাত পাওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং ঠোঁটে আঘাতের কারণে কথা বলতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া তার একটি পায়ে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং কৃত্রিম পা লাগানোর প্রস্তুতি চলছে।
তবে মানসিকভাবে তিনি সক্রিয় ও সুস্থ আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চিকিৎসা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে মোজতবা খামেনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য নষ্ট ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতেই এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।