বিএনপি নির্বাচনে এলে সংবিধান অনুযায়ী তফসিল পেছানোর সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনিছুর রহমান। কুমিল্লা সার্কিট হাউজে গতকাল দুপুরে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নির্বাচনে এলে তফসিল পেছানোর ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘তারা নির্বাচনে আসতে চাচ্ছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি এমন কথা। যদি তারা পর্দার অন্তরালে আলাপ-আলোচনা বা জোটবদ্ধ হয় তাহলে বিষয়টি পেছানোর সুযোগ আছে। আমাদের এক নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, বড় রাজনৈতিক দলটি নির্বাচনে আসলে তফসিল পেছানো নিয়ে সংবিধানে সুযোগ আছে।’
তফসিলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা বিষয়টি নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বণিক বার্তার সঙ্গে কথা হয় ইসি মো. আনিছুর রহমানের। তিনি বলেন, ‘সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা আমাদের হয়নি। একটু আগেও আমি সচিবের সঙ্গে কথা বললাম। তিনিও এ ধরনের কোনো আভাস দেননি আমাকে। এমন কিছুর যদি প্রয়োজন পড়ে তখন দেখা যাবে।’
‘তফসিল পেছানোর সুযোগ রয়েছে’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের কমিশনও তফসিল পেছানোর সুযোগ আছে এটা বলেছেন। আসলে সংবিধান অনুযায়ী তো ২৯ জানুয়ারি শেষ দিন আমাদের হাতে। সে হিসেবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পেছানো যেতেই পারে। আমি সেই দিক বিবেচনায় বলেছি। তবে আমাদের মাঝে এ নিয়ে কোনো আলাপ হয়নি।’
এর আগে দুপুরের মতবিনিময় সভায় নির্বাচনে কাউকে আনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কে আসল কে আসল না, এটা আমাদের বিষয় নয়। কেউ আসলে আসল, না আসলে কাউকে আনার দায়িত্ব আমাদের নয়। নির্বাচনে আসা না আসা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। তবে বড় দল নির্বাচনে এলে এখনো বিবেচনার সুযোগ আছে। সময়মতো নির্বাচন না করলে ফাইনালি সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হবে।’
ইসি মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না হলে সংবিধানে একটি শূন্যতা তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন করা। কেউ নির্বাচনে না আসলে নির্বাচন থেকে পিছু সরে যাওয়ার সুযোগ নাই। নির্বাচন নির্বাচনের গতিতে হবে। সময়মতো নির্বাচন হবে।’
‘নির্বাচনে কত পারসেন্ট লোক ভোট দিল, এটা বিবেচ্য বিষয় নয়। আইনে ও সংবিধানেও বলা নেই, কত পারসেন্ট ভোট পড়তে হবে। সর্বোচ্চ ভোট যিনি পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন করা’ বলেও মন্তব্য করেন এ নির্বাচন কমিশনার।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির ব্যাপারে জামালপুরের ডিসির ভাইরাল হওয়া বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনে রদবদলের প্রয়োজন পড়লে করা হবে। তখন প্রশাসন আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমরা তবু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওই ডিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রশাসন এখন আমাদের। সুতরাং প্রয়োজন পড়লে আমরা প্রশাসনেও রদবদল আনতে পারি।’
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শাখাওয়াত হোসেন ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া সভায় কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।