নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করে তার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সোয়া দুইটার দিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। শনিবার সকালে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন। বাকিরা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহারে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মাছুম মোস্তফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মোট ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফেরার পথে এমপির গাড়ি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে থামে। এ সময় সেখানে একদল যুবকের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তার গাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং পরে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে প্রায় এক ঘণ্টা পর এমপিকে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে করে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, রাতেই জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মাছুম মোস্তফা দাবি করেন, হামলাকারীরা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এটি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা। তবে বিএনপি নেতা আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন এবং দলীয় কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয়। তার দাবি, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।