যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে জানা গেছে, ২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিক দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস আচরণ ও অপরাধপ্রবণতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একজন ‘নিয়মিত অপরাধী’ এবং অতীতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক সহিংসতা ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। জামিল লিমনের সাবেক রুমমেট হিশামের আচরণে আগেই উদ্বেগ ছিল বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, হিশামের বাসা থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে নাহিদা বৃষ্টির মিল পাওয়া গেছে, যা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটিও ছিল নাটকীয়। টাম্পার উত্তরে নিজের বাসায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গেলে হিশাম অস্ত্রসহ নিজেকে ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটকে ডাকা হয়। দীর্ঘ সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
আদালত ও শেরিফ অফিসের নথি ঘেঁটে জানা গেছে, হিশাম পূর্বে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালেই শারীরিক হামলা ও চুরির অভিযোগ ওঠে। এমনকি তার পরিবারের সদস্যরাও তার সহিংস আচরণের কারণে আদালতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুর তথ্য গোপন, মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা এবং পরিকল্পিত সহিংসতার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জামিল লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার এবং নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।
নাহিদা বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিশামের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে তার ডিএনএ মিলেছে। তবে মরদেহ সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত হিশামকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ এগোচ্ছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ এই নৃশংস ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।