ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৈরি ‘বোর্ড অব পিস’ নামের আন্তর্জাতিক মঞ্চের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা পুনর্গঠনে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গাজায় অবকাঠামো উন্নয়ন, ত্রাণ বিতরণ ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বোর্ড অব পিসের সদস্য দেশগুলো ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে গাজার পূর্ণ পুনর্গঠনের জন্য আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজার একটি বড় অংশের পুনর্গঠন ও পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নীরব রয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় একটি নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা, বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব আলোচনায় ফিলিস্তিনকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে সমালোচনাও উঠেছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও হামাসের সংঘর্ষে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের উদ্যোগে ‘বোর্ড অব পিস’ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় এবং বিভিন্ন দেশকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যদিও ভারতসহ একাধিক দেশ এতে যোগ দেয়নি।
ট্রাম্প পূর্বে বলেছিলেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নিয়ে অঞ্চলটিকে ‘মিডল ইস্টের রিভিয়েরা’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই উদ্যোগটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়। এদিকে গাজায় চলমান অস্থিরতা ও সীমিত মানবিক সহায়তার মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় শত শত ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্গঠন উদ্যোগ যতটা না মানবিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাড়ছে।
সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস