শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে কুমিল্লার একটি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে ফেসবুক লাইভ করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা-২ (হোমনা–তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাবলিক পরীক্ষা আইন ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার নিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সংসদ সদস্যের এ ধরনের ফেসবুক লাইভ পরীক্ষার পরিবেশ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে পারলেও তা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে। এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল—জনপ্রতিনিধিরা সঙ্গী বা অতিরিক্ত লোক নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই বিরক্ত করা যাবে না। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে মন্ত্রীর কাছে অবহিত করেছেন এবং পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রুনা নাছরীন বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সাধারণত কেন্দ্রসচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারেন। বোর্ডের পরিদর্শন দল থাকলে তারা নির্ধারিত নিয়মে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তবে কোনো ধরনের লাইভ সম্প্রচার বা পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার হোমনা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষার সময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি সেলিম ভূঁইয়া দোতলায় উঠে একাধিক পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ফেসবুক লাইভে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন করেন ও বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রায় ৯ মিনিটের লাইভে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বেঞ্চের সামনে গিয়ে প্রশ্নপত্র সহজ হয়েছে কি না—এমন কথাও জিজ্ঞেস করছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া সাড়া দেননি।
এর আগে ১২ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্টভাবে জানান, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা পরীক্ষাকেন্দ্রে সঙ্গী-সাথী নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং পরীক্ষার্থীদের কোনোভাবেই বিরক্ত করা যাবে না।