জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আজ বুধবার থেকে সপ্তাহে দুই দিন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে নির্দিষ্ট দুই দিন হাইকোর্ট বিভাগে এবং আপিল বিভাগেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালত কার্যক্রম চলবে। ১৯ এপ্রিল জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। তারা দাবি করেছেন, আদালত পরিচালনায় ভার্চুয়াল পদ্ধতি চালু হলে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হবে। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তারা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনার আহ্বান জানান।
আইনজীবীরা সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এম. মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু বকর সিদ্দিকীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্বে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও এবার কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। তারা আরও বলেন, এজলাসে উপস্থিত থেকেই বিচারকরা ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের যুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আইনজীবীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি না মানা হলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। উল্লেখ্য, করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে প্রথমবার ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু হয়েছিল বাংলাদেশে, যা সে সময় সীমিত আকারে বিচার কার্যক্রম চালু রাখতে সহায়তা করেছিল।