আসন্ন ঈদুল আযহা সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশু কেনাবেচায় ‘ওজন মেপে দাম নির্ধারণ’ বা লাইভ ওয়েট পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে বড় শহর ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। তবে এভাবে পশু কেনা শরিয়তসম্মত কি না—এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি জানান, ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। এতে ক্রেতা ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। ইসলাম কাউকে লোকসান দিয়ে কেনাবেচা করতে বাধ্য করে না, তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ওজন ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পশু কেনা যেন শুধুমাত্র লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ না হয়ে যায়। কোরবানির মূল উদ্দেশ্য আধ্যাত্মিক—এটি যেন ভুলে না যাওয়া হয়।
অনেকে কম দামে বেশি মাংস পাওয়ার জন্য বড় পশু খোঁজেন, যাতে গরিবদের মধ্যে বেশি বিতরণ করা যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি নিয়ত ভালো থাকে—অর্থাৎ গরিবদের উপকার করা—তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং এটি প্রশংসনীয়। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় কেবল বেশি মাংস খাওয়া বা সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শন, তাহলে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, কোরবানি শুধু মাংস বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর নির্দেশের প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ, যা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।