দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে ৯ দফা প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে এসব প্রস্তাব গৃহীত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে দলের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান।
নেতারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ও জাতীয় ঐকমত্য গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস ও কয়লা উত্তোলন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাত আধুনিকায়নের দাবি জানানো হয়। কৃষিতে সার সংকট নিরসন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।
প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার এবং অর্থ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথাও উঠে আসে।
সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে এককভাবে নয়, বরং সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে। তার মতে, ঘোষিত নীতি ও সনদগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।