দীর্ঘ ১৬ বছর পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়, তবে তিন পার্বত্য জেলা এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রথম দিনের পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর এই পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১০ দফা নির্দেশনা ও আচরণবিধি জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বাধ্যতামূলক, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ওএমআর শিটে নির্ধারিত তথ্য ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবে না। এছাড়া পরীক্ষার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করতে পারবে না এবং খসড়া কাজ শুধুমাত্র উত্তরপত্রেই করতে হবে। হলের ভেতরে কথা বলা বা অন্যের উত্তরপত্র দেখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরীক্ষার পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় আলাদা সময়সূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এবারের নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।