যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা এখন বিপজ্জনক ‘গেম অব চিকেন’ বা স্নায়ুযুদ্ধের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। রবিবার ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অংশ নেন। আলোচনায় মূল বিরোধ ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। তবে কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন, যা ইরানের প্রধান বন্দরগুলোর ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকরা ‘গেম অব চিকেন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন—যেখানে দুই পক্ষই সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যায় এবং যে আগে সরে আসে, তাকে পরাজিত হিসেবে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করছে, অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে আলোচনায় আনবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার অভিজ্ঞতায় ইরান সহজে নতি স্বীকার করবে না। নৌ-অবরোধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটকানো ও প্রয়োজনে ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জবাবে ইরানও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইয়েমেন, ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয় বলে মনে করা হচ্ছে।