দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছে লেবানন ও ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অনুসন্ধানমূলক’ বলে উল্লেখ করা হলেও আলোচ্যসূচিতে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাখা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানান, এই আলোচনার পরিধি শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গত দুই থেকে তিন দশকে এই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর যে প্রভাব তৈরি হয়েছে, তার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করাই মূল লক্ষ্য। তার মতে, হিজবুল্লাহ শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, লেবাননের সাধারণ মানুষের জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
তবে এই বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়ে শুরুতেই প্রশ্ন উঠেছে, কারণ লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিজবুল্লাহর কোনো প্রতিনিধি আলোচনায় উপস্থিত ছিল না। ১৯৯৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। বর্তমানে সংগঠনটি লেবাননের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে সক্রিয় রয়েছে।
হিজবুল্লাহর অনুপস্থিতির কারণে বৈঠকে অংশ নেওয়া লেবাননের সরকারি প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ইসরায়েলি প্রভাব ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এই সংগঠনের উত্থান ঘটে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই বৈঠক একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের প্রাথমিক ধাপ। সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন হিজবুল্লাহর সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আনার বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর গভীর প্রভাব থাকায় তাদের বাদ দিয়ে স্থায়ী সমাধান কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। তিন দশক পর সরাসরি মুখোমুখি হওয়া এই দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। যদিও এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, তবে দুই পক্ষকে একই টেবিলে বসাতে পারাকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই