যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাচ্ছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শুরু হতে চলা শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বিশ্লেষকরা দেখছেন, চলমান উত্তেজনার পর এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর শেষ সুযোগ।
ইরানের রাষ্ট্রদূত সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তেহরানের জনমনে সংশয় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবুও বৃহত্তর শান্তির স্বার্থে ইরান তাদের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা দাবির’ ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুলে দিয়েছে। মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত থাকবেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে ১০ দফা দাবির ওপর এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক রাখা বিষয়টি সমঝোতার মূল শর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদের বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব হবে কিনা।
সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স