ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বিশেষ করে লেবাননকে এই চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে কি না—এ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান দাবি করছে, লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েল এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। এর মধ্যেই লেবানন সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। এদিকে পাকিস্তান নিজেকে এই সংকটে শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তবে Financial Times-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদ প্রকৃতপক্ষে নিরপেক্ষ ছিল না। বরং হোয়াইট হাউস-এর চাপেই পাকিস্তান ইরানের ওপর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব চাপিয়ে দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিল, যাতে তারা তেহরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে পারে। এর শর্ত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টিও সামনে আনা হয়। পর্দার আড়ালে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির। তিনি দ্রুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-এর সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
এই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে The New York Times জানায়, ঘোষণার আগেই হোয়াইট হাউস এটি অনুমোদন করেছিল। ঘটনাটি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে, যখন শরিফের প্রকাশিত বার্তায় ভুলবশত “ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা” শিরোনামটি থেকে যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গের ঝড় ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যুতে অস্পষ্টতা এবং মধ্যস্থতায় বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আল-জাজিরা।