দিনাজপুর, ৯ এপ্রিল (ইত্তেফাক) – ফুলবাড়ী উপজেলায় গত মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালানো শিলাবৃষ্টিতে আম, লিচু, ভুট্টা এবং আগাম ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বড় বড় শিলার আঘাতে শতাধিক ঘরবাড়ির টিনের চালা ঝাঁজরা হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টি বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ১ নম্বর এলুয়ারি ইউনিয়নের ৯টি গ্রামে ঘটেছে। এতে খেতের ধানের পাশাপাশি লিচু ও আমগাছের পাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ধানের মাঝে ঝরে পড়েছে আগাম ইরি-বোরো। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী দিশেহারা। পানিকাটা গ্রামের আনোয়ার সাদাত বলেন, “অনেক ঘরের টিনের চালা ঝাঁজরা হয়ে গেছে।” সোলেমান হোসেন জানান, তার আড়াই বিঘা জমির ধান ঝরে গেছে। পুটকিয়ার মোকছেদ আলী বলছেন, তার পাঁচ বিঘা জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। এলুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নবিউল ইসলাম বলেন, “শিলার আঘাতে খেত, গাছপালা এবং ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোকজন দিশেহারা।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায়ও ঝোড়ো বৃষ্টি ও কালবৈশাখী দেখা গেছে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে, এবং বোরো ধান, কলা, পেঁপে, আম ও সবজি সহ প্রায় ১৩৩ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসামগ্রী ও ঢেউটিন সহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ৯ এপ্রিল (ইত্তেফাক) – ডাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণার সাত মাস পর শিক্ষার্থীরা হতাশ। প্রায় ২৩টি পদের মধ্যে বিজয়ী হওয়া প্যানেল শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবার, নিরাপদ পরিবহন এবং প্রশাসনিক জটিলতা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, হলের খাবারের মান, নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখনও দেখা যায়নি। হেলথ ইকোনমিকস বিভাগের শিক্ষার্থী নবনীতা চক্রবর্তী বলেন, “নির্বাচনের পর আমাদের অনেক ইশতেহারের কোনো দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যায়নি।” ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাদিক কায়েম স্বীকার করেছেন, কিছু ইশতেহার বাস্তবায়ন হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কাজ চলমান আছে, তবে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণ করা যায়নি।
শিবিরের দেওয়া ইশতেহারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো—আবাসন সংকট নিরসন, নতুন হল নির্মাণ, হল ও ক্যাম্পাসে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত, ক্যাম্পাসে যান-নিয়ন্ত্রণ, রেজিস্ট্রার্ড রিকশা প্রবর্তন—সপ্তাহের সাত মাসে বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়াও, ছাত্রী হল ব্যবস্থাপনা, গ্রিডেন্স রেসপন্স টিম গঠন, লাইব্রেরি ডিজিটালাইজেশন, সাউন্ড বক্স নীতি প্রণয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইশতেহারও কার্যকর হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে ইশতেহার দেওয়া হলেও বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।