ঢাকা, ৯ এপ্রিল (ইত্তেফাক) – জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় প্রকাশ করবেন। (সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, ২০২৬)
মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ২৭ জানুয়ারি এটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এরপর ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করার দিন ধার্য করেন। প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। তখন সরকার তাদের দাবির সম্মান জানিয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে। কিন্তু ২০২৪ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে কোটা পুনর্বহাল করে। এই ঘটনায় পুনরায় কোটা বাতিলের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও পাবে না? তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?” এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাতে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে। পরদিন বিকালে ঢাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন, যেখানে হামলা চালায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আহত হন।
আবু সাঈদ ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। পুলিশ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে তাকে গুলি করে হত্যা করে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঐ ঘটনায় দেশের অন্যান্য স্থানে আরও ছয় জন নিহত হয়। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় উঠে এসেছে, নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উপর বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। (সূত্র: ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মামলার নথি, ২০২৬)
এই রায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থী আন্দোলন, মানবাধিকার ও পুলিশি সহিংসতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।