সিলেটের হাওর এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কমপক্ষে ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে পানির নিচে থাকা কাঁচা ধান কেটে নৌকায় করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। রাতের বৃষ্টিতে হাওর আবার ভর্তি হওয়ায় শত শত সেচ যন্ত্র ব্যবহার করেও জল নিস্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের ইসলামপুর গ্রামে সোমবার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ধানগুলো মূলত গবাদিপশুর জন্য কোমরপানিতে কেটে নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ কাঁচা ধান সিদ্ধ করে চাল বের করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, হাওরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ কাঁচা ধান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
কৃষক মকবুল মিয়া বলেন, “বাঁধে কোনা স্লুইসগেট না থাকায় দেখার হাওরে আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত বাঁধ আমাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে।” অন্য কৃষক রশিদ মিয়া যোগ করেন, “জমিতে পানি জমে গিয়েছে। ধান পাকা হলে বেশি ভালো হত, এখন অনেক ক্ষতি হয়েছে।” সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম জাতীয় সংসদে জানান, অন্তত ৫০০ সেচ যন্ত্র ব্যবহার করেও সমস্যা সমাধান হয়নি। তিনি কৃষিমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী মৌসুমে সার ও বীজ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। হাওরে পরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণের কাজ করা হবে। সিলেট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোশারফ হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না, তাই ধান কাটার শ্রমিক নিয়োগে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন হাওরে অর্ধশতাধিক স্লুইসগেট থাকলেও নতুন ১০-১৫টি স্লুইসগেট নির্মাণ করা প্রয়োজন। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ধান পাকা হবে এবং তখন পুরোপুরি ধান কাটার কাজ শুরু করা যাবে।