ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল ভোর থেকে চালানো এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পেট্রোকেমিক্যাল রাসায়নিক কারখানা এবং একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল। হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এর গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ভয়াবহ হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে বন্ধু দেশের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
গতকাল সকালে শিরাজ শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনার খবর পাওয়া যায়। কওম শহরের কিছু বাসিন্দা জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১টার দিকে শহরের কিছু এলাকা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কওম প্রদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নাগরিকদের ঘটনাস্থলে ভিড় না করার অনুরোধ করেছেন। তেহরানের ৯ নম্বর জেলার মেয়র জানিয়েছেন, শরিফ ইউনিভার্সিটির গ্যাস স্টেশনে হামলার কারণে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হামলার শিকার হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসম্যান ইয়াসমিন আনসারি শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার সমালোচনা করেছেন। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমির হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান নিহত হওয়া ইরানের জন্য বড় ধাক্কা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার সুযোগ করে দেবে। ইরানা সূত্রে জানা গেছে, “আমরা যুদ্ধের অবসান এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানাচ্ছি।”
সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন।