তীব্র গরমের মধ্যে বরিশাল নগরীতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। নগরের অধিকাংশ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এক নম্বর বিতরণ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিটি লাইনে নির্দিষ্ট সময় ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে দুই নম্বর বিতরণ অঞ্চলে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৯ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১ মেগাওয়াট। মূল গ্রিডে ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিশেষ করে রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। এক বাসিন্দা বলেন, এমন অবস্থা হয়েছে যে মনে হয় বিদ্যুৎ বিল দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
আরেক বাসিন্দা জানান, তীব্র গরমের সঙ্গে মশার উপদ্রব বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নগরের বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সংকটে দোকান খোলা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ক্রেতা কমে গেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
গ্রিড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার নগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।